মহিলাদের হজ্ব বিষয়ক প্রশ্নাবলী

By | Fri 25 Jumada Al Akhira 1438AH || 24-Mar-2017AD

প্রশ্ন ৩৪৫৫: মহিলাদের জন্য কি ইহরাম অবস্থায় হাত-মোজা, পা-মোজা পরা জায়েয আছে? দলীল-প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হব। সহীহ বুখারীতে নাকি আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের হাতমোজা পরতে নিষেধ করেছেন?

উত্তর: মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা, পা-মোজা পরা জায়েয।

হাদীস শরীফে আছে, সালেম রাহ. বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মুহরিম মহিলাদের পা-মোজা কেটে দিতেন। কিন্তু সফিয়া বিনতে আবু উবাইদা রা. তাঁর কাছে আয়েশা রা.-এর এ হাদীস যখন বর্ণনা করলেন যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম মহিলাদের পা-মোজা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন’ এরপর থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মুহরিম মহিলাদের পা-মোজা আর কেটে দিতেন না। – সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৮৩১

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহিলাগণ ইহরাম অবস্থায় হাত-মোজা ও পা-মোজা পরিধান করতে পারবে। – মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৪৪

সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ইহরাম অবস্থায় তার কন্যাদেরকে হাত-মোজা পরার নির্দেশ দিতেন। – কিতাবুল উম ২/২২৩

কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ, হাসান বসরী, হাকাম ও হাম্মাদ রাহ. প্রমুখ তাবেয়ীগণ থেকেও ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের হাতমোজা পরা জায়েয হওয়ার কথা বর্ণিত আছে। – মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৫৯৬৭, ১৪৪৪১

আর প্রশ্নে সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতিতে যে হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে তা মূলত মওকুফ হাদীস। অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর উক্তি। (আস সুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৪/৪৭; ফাতহুল বারী ৪/৬৪)

আর উপরে আমরা দেখেছি, একাধিক সাহাবী ও তাবেয়ীর মত এক্ষেত্রে এটিই যে, মহিলাগণ ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পরবে। ইমাম আবু হানীফা  ও ইমাম শাফেয়ী রাহ.-সহ অনেক ফকীহের মতে এ অভিমতটিই অধিক শক্তিশালী।  – কিতাবুল উম ২/২২৩; আলমাবসূত সারাখসী ৪/৩৩


প্রশ্ন ৩৪৫৪: হজ্বের সফরে আমি একটি সমস্যায় পড়ে থাকি। তা হল, হজ্বের সময় কখনও কখনও ঋতুস্রাব  এসে যায়। এ নিয়ে খুব পেরেশান হয়ে যাই। মুফতী ছাহেবের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, হজ্বের সময় যদি আমার স্রাব এসে যায় তাহলে হজ্বের আমলগুলো আদায়ের ক্ষেত্রে আমার কী হুকুম হবে। কোনটি স্রাব অবস্থায় আদায় করা যাবে আর কোনটি আদায় করা যাবে না। সুস্পষ্টভাবে জানালে আমি পেরেশানীমুক্ত হব। আল্লাহ আপনাদের খেদমতকে কবুল করুন।

উত্তর: স্রাব অবস্থায় কেবল বাইতুল্লাহর তাওয়াফ এবং মসজিদে হারামে প্রবেশ করা নিষেধ। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্ব ও উমরার ইহরাম করা থেকে নিয়ে হালাল হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য সকল আমল আপনি স্রাব অবস্থায় আদায় করতে পারবেন। যেমন, মিনায় থাকা,মুযদালিফা ও আরাফার উকুফ, মিনার পাথর নিক্ষেপ, কুরবানী ইত্যাদি কাজ এ সময়েও আঞ্জাম দেওয়া যাবে। এমনকি উমরার তাওয়াফের পর স্রাব আসলে এ অবস্থায় সায়ীও করতে পারবেন। আর স্রাবের দরুন তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করতে বিলম্ব হয়ে গেলেও কোনো জরিমানা দম আসবে না।   -সহীহ বুখারী, হাদীস ৩০৫; রদ্দুল মুহতার ২/৫১৯


প্রশ্ন ৩৪৩৩: একজন নিঃসন্তান বিধবা নারীর উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। তার আপন ভাই আছে, কিন্তু তাদের উপর হজ্ব ফরয নয়। তবে বিধবার ছোট বোন ও তার স্বামী হজ্বের সফরে যাচ্ছে। উক্ত বিধবা তাদের সাথে হজ্বের জন্য নিয়ত করেছে। এখন প্রশ্ন হল, ছোট বোন ও তার স্বামীর সাথে বিধবার হজ্বের জন্য যাওয়ার বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী? 

উত্তর: হজ্বের সফরেও মহিলাদের জন্য মাহরাম থাকা আবশ্যক। সহীহ মুসলিমে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার পিতা, ছেলে, স্বামী বা ভাই অথবা অন্য কোনো মাহরাম ছাড়া তিনদিন (৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার) বা তার চেয়ে বেশি দূরত্বের কোথাও সফর করা বৈধ নয়।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪০

হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবায় বলতে শুনেছি, .. কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া কোথাও সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী তো (মাহরাম ছাড়াই) হজ্বের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। আর আমি তো অমুক যুদ্ধে যাব বলে নাম লিখিয়েছি। আল্লাহর রাসূল বললেন, যাও, তুমিও তোমার স্ত্রীর সাথে গিয়ে হজ্ব কর। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪১

সুতরাং প্রশ্নোক্ত মহিলার জন্য তার বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্বে যাওয়া জায়েয হবে না। মাহরামের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে। আর শারীরিক সক্ষমতা থাকা পর্যন্ত যদি মাহরামের ব্যবস্থা না হয় তাহলে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেলে কাউকে দিয়ে বদলি হজ্ব করাতে হবে বা বদলি হজ্বের অসিয়ত করে যেতে হবে।

উল্লেখ্য যে, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী যেমন মহিলাদের জন্য হজ্বের সফরে স্বামী বা মাহরাম থাকা জরুরি তেমনি বাস্তবতার আলোকেও হজ্বের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য পুরো সফরে মহিলার জন্য মাহরামের প্রয়োজন। তাছাড়া সৌদি সরকারের আইন অনুযায়ী মহিলার সাথে মাহরাম থাকা বাধ্যতামূলক। মাহরাম সাথে না থাকলে হজ্ব এজেন্সিগুলো ভুয়া মাহরাম বানিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে। হজ্বের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় করতে গিয়ে এমন গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। -রদ্দুল মুহতার ২/৪৫৮; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৫৫

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*