দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ বিশেষ সময়

By | Wed 4 Rabi Al Awwal 1442AH || 21-Oct-2020AD

♥ আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় [সুনানে আবু দাউদ (ইফা:) হাদিস নম্বরঃ ৫২১, তিরমিযী (ইফা:) ৩৫৯৫, নাসাঈ, মুসলিম]
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত দুআ কখনই প্রত্যাখ্যাত হয়না।

 

♥ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে [সহীহ বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী (ইফা:) হাদিস নম্বরঃ ৩৪৯৮]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতি রাতেই শেষ রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে আমাদের পরওয়ারদিগার দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। এরপর তিনি বলেনঃ কে আছে আমাকে ডাকার আমি তার ডাক কবুল করব। কে আছে আমার কাছে চাইবার আমি তাকে তা দান করব, কে আছে আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।

 

♥ অসুস্থ ব্যক্তি, অসুস্থাবস্থায় [ইবনে মাজাহ (ইফা:) ১৪৪১]
উমার উবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ তুমি যখন রোগীর কাছে গমন করবে, তখন তুমি তাকে তোমার জন্য দুআ করতে বলবে। কেননা তার দু‘আ ফেরেশতাদের দু‘আর অনুরূপ।

 

♥যমযমের পানি পান করা অবস্থায় [ইবনে মাজাহ (ইফা:)৩০৬২, আহমাদ ১৪৪৩৫, ১৪৫৭৮]
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যমযমের পানি যে উপকার লাভের আশায় পান করা হবে, তা অর্জিত হবে


♥ বাবার দোয়া  সন্তানের জন্য [তিরমিযি (ইফা:) ৩৪৪৮]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি দু’আ মকবুলঃ মাযলুমের দু’আ, মুসাফিরের দু’আ, সন্তানের জন্য তার পিতার দু’আ।


♥ মুসাফিরের দু’আ [তিরমিযি (ইফা:) ৩৪৪৮]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি দু’আ মকবুলঃ মাযলুমের দু’আ, মুসাফিরের দু’আ, সন্তানের জন্য তার পিতার দু’আ।

 

♥ ফরজ সালাতের পর [তিরমিজী (ইফা:) ৩৪৯৯]
আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন দু’আ বেশী কবুল হয়? তিনি বললেনঃ শেষ রাতের মাঝে আর ফরয সালাতের পরে।

 

সফর অবস্থায় [তিরমিযি (ইফা:) ৩৪৪৮]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি দু’আ মকবুলঃ মাযলুমের দু’আ, মুসাফিরের দু’আ, সন্তানের জন্য তার পিতার দু’আ।

 

জুমু’আর দিন [তিরমিজী (ইফা:) ৪৮৯, ৪৯০]
তিরমিযী ৪৮৯ – আবদুল্লাহ ইবনুল সাববাহ আল-হাশিমী আল-আত্তার (রহঃ) …… আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ জুমাবারের যে মুহূর্তটিতে দু’আ কবূলের আশা করা যায়, তোমার সে মুহূর্তটিকে বাদ আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিতে তালাশ কর।

তিরমিযী ৪৯০ – যিয়াদ ইবনু আয়্যূব আল-বাগদাদী (রহঃ) ……… আমর ইবনু আওফ আল-মুযানী থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ জুমুআর দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে। কোন বান্দা যদি সেই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে কিছু দু’আ করে, তবে অবশ্যই তিনি তার দু’আ বাস্তবায়িত করেন। সাহাবীগণ আরয করলেন : হে আল্লাহর রাসূল! কোনটি এই মুহূর্ত? তিনি বললেনঃ জুমুআর ইকামতে সালাত থেকে নিয়ে তা শেষ হওয়া পর্যন্ত।

 

♥ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া [ইবনে মাজাহ (ইফা:) ১৭৫২, তিরমিযী (ইফা:) ৩৫৯৮]
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনি ব্যক্তির দু‘আ রদ হয় নাঃ ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ, রোযাদার যতক্ষণ না সে ইফতার করে এবং মজলুমের দু‘আ। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ এই শ্রেণীর মর্যাদা এ মেঘমালার উপর রাখবেন এবং তাদের জন্য আসমানের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। আর আল্লাহ্ বলবেনঃ আমার ইজ্জতের কসম ! একটু পর হলেও, আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো

 

♥আরাফা দিনের দু’আ [তিরমিযী (ইফা:) ৩৫৮৫]
আমর ইবন শুআয়ব তৎপিতা, তৎপিতামহ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম দু’আ হল আরাফা দিনের দু’আ। আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছেন তাই সবচেয়ে মঙ্গলজনকঃ
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

 

♥রোজাবস্থায় ও ইফতারের সময় [ইবনু মাজাহ (ইফা:) ১৭৫৩, তিরমিযী (ইফা:) ৩৫৯৮]
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল আস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইফতারের সময় রোযাদারের অবশ্যই একটি দু‘আ আছে, যা রদ হয় না (কবুল হয়)। ইবনু আবূ মুলাইকা (রহ.) বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-কে ইফতারের সময় বলতে শুনেছিঃ
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي
অর্থ: ‘‘হে আল্লাহ্! আমি আপনার দয়া ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যা সব কিছুর উপর পরিব্যপ্ত, যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন’’। -ইবনু মাজাহ (ইফা:) ১৭৫৩

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনি ব্যক্তির দু‘আ রদ হয় নাঃ ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ, রোযাদার যতক্ষণ না সে ইফতার করে এবং মজলুমের দু‘আ। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ এই শ্রেণীর মর্যাদা এ মেঘমালার উপর রাখবেন এবং তাদের জন্য আসমানের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। আর আল্লাহ্ বলবেনঃ আমার ইজ্জতের কসম ! একটু পর হলেও, আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবোতিরমিযী (ইফা:) ৩৫৮৫

 

♥বৃষ্টি বর্ষনের সময় [সূনান আবু দাউদ (ইফা:) ২৫৩২]
সাহল ইবন সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু‘সময়ের দু‘আ (কবুল না হয়ে) ফেরত আসে না। ১. আযানের সময়ের দু‘আ ২. যুদ্ধের সময়ের দু‘আ, যখন একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে।
অত্র হাদীসের মধ্যবর্তী রাবী মূসা অপর সনদে উক্ত সাহাবী হতে এ হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বৃষ্টির সময়ও দু‘আ কবুল হয়।

 

♥শত্রূর মোকাবিলার সময় [সূনান আবু দাউদ (ইফা:) ২৫৩২]
সাহল ইবন সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু‘সময়ের দু‘আ (কবুল না হয়ে) ফেরত আসে না। ১. আযানের সময়ের দু‘আ ২. যুদ্ধের সময়ের দু‘আ, যখন একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে।
অত্র হাদীসের মধ্যবর্তী রাবী মূসা অপর সনদে উক্ত সাহাবী হতে এ হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বৃষ্টির সময়ও দু‘আ কবুল হয়।

 

♥সেজদাহবস্থায় [সূনান নাসাঈ (ইফা:) ১১২৩]
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অসুখে ইন্তেকাল করেন, সে অসুস্থ অবস্থায় তিনি পর্দা খুললেন, তখন তার মাথায় পট্টি বাধা ছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি পৌছিয়েছি, একথা তিনবার বললেন। বস্তুত যথার্থ স্বপ্ন ব্যতীত নবুওতের সুসংবাদ থেকে আর কিছুই বাকি রইল না। বান্দা তা দেখে অথবা তাকে তা দেখানো হয়। তোমরা শুনে রেখ; আমাকে রুকু এবং সিজদায় কিরাআত থেকে নিষেধ করা হয়েছে। অতএব, যখন তোমরা রুকু করবে তখন তোমাদের রবের তা’যীম করবে। আর যখন তোমরা সিজদা করবে তখন তোমরা বেশি বেশি দোয়া করার চেষ্টা করবে। কেননা, এটা তোমাদের দোয়া কবুলের উপযুক্ত সময়।

 

♥হজ্জ ও উমরাকারীগণের দুআ [ইবনে মাজাহ (ইফা:) ২৮৯২]
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হজ্জ যাত্রীগণ ও উমরার যাত্রীগণ আল্লাহর প্রতিনিধিদল। তারা তাঁর নিকট দোয়া করলে তিনি তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাঁর নিকট মাফ চাইলে তিনি তাদের মাফ করে দেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*