দরূদ শরীফ বিষয়ক কিছু হাদীস

By | Sat 18 Jumada Al Oula 1437AH || 27-Feb-2016AD

ফাযায়েলে দরূদ:

হাদিস ১,২। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) …… আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর অধিক সালাত (দরূদ) পাঠ করে, কিয়ামতের দিন সে-ই আমার অধিকতর নিকটবর্তী থাকবে। 

একই হাদিসে রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার সালাত (দরূদ) পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশবার রহমত করবেন এবং তার জন্য দশটি নেকী লেখা হবে। তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪ [ইফা]

হাদিস ৩। হযরত আবু উমামাহ (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করিয়াছেন, প্রত্যেক জুম্মার দিন আমার উপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠাও।কারণ আমার উম্মতের দরূদ প্রত্যেক জুম্মায় আমার নিকট পেশ করা হয়। এতএব যে ব্যক্তি যত বেশী আমার উপর দরূদ পাঠাইবে সে (কিয়ামতের দিন) মর্তবা হিসাবে ততই আমার নিকটে থাকিবে। -বায়হাকী, তরগীব

হাদীস ৪। হযরত আবু দারদা (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি সকাল- সন্ধ্যা আমার উপর ১০ বার দরূদ শরীফ পড়িবে সে কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভ করিবে-তাবারানী, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ

 

কতিপয় দরূদ ও তা পাঠের ফযিলত:

হাদীস ১। হযরত রুআইফি’ ইবনে সাবেত (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ ﷺ এর উপর এইভাবে দরূদ পাঠাইবে

اَلَّلهُمَّ أَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

তাহার জন্য আমার শাফায়াত জরুরি (ওয়াজীব) হইয়া যাইবে।
অর্থ: ইয়া আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ ﷺকে কিয়ামতের দিন আপনার নিকট বিশেষ নৈকট্যের স্থানে অধিষ্ঠিত করুন। – বাযযার, তাবারানী, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ

 

হাদিস ২। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার ও আমার পরিজনের প্রতি সালাত (দরূদ) প্রেরণের মাধ্যমে পূর্ণ ছাওয়াব হাসিল করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এরূপ বলে:

– اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى النَّبِيِّ الْاُمِّيِّ وَاَزْوَاجِهٖ وَذُرِّيَتِهٖ وَاَهْلِ بَيْتِهٖ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى اٰلِ اِبْرَاهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ

“হে আল্লাহ! তোমার সালাত তথা খাস দান ও রহমত নাযিল কর নবী উম্মী মুহাম্মদ সল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মীনীগণ ও তার আল-আওলাদের প্রতি, যেমনটি খাস রহমত নাযিল করেছো ইব্রাহিম (আ) এর আল-আওলাদ-পরিজনের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি স্তব-স্তুতি ও মহাত্ত্যের অধিকারী।”  আবু দাউদ

ব্যাখ্যা: এ হাদিসের ভিত্তিতে অনেকের ধারণা দরূদসমূহের মধ্যে এটাই সর্বশ্রেষ্ট দরূদ। কেননা, বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি পূর্ণ বরকত ও রহমত এবং ছাওয়াব হাসিল করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন দরূদটি পাঠ করে। আবার কেউ কেউ বলেছেন সালাতে দরূদে ইব্রাহিম পাঠ করা সর্বোত্তম আর সালাতের বাইরে এ দরূদই সর্বোত্তম। আল্লাহই ভালো জানেন। [ব্যাখ্যাটা মারেফুল হাদিস থেকে নেয়া হয়েছে।]

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*