উম্মাহর নক্ষত্ররাজি : সুমাইয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা

By | Thu 28 Safar 1442AH || 15-Oct-2020AD
মক্কার আল-বাতহা উপত্যকা,
এ উপত্যকার উত্তপ্ত বালির মাঝে লোহার বর্ম পড়িয়ে শুইয়ে রাখা হত সুমাইয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা), তাঁর স্বামী ইয়াসির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু), পুত্র আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াসির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কে। মূলত ইসলাম গ্রহণের কারণে কাফির সর্দার আবু জেহেল সুমাইয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) ও তাঁর পরিবারের ওপর শুরু করে অকথ্য নির্যাতন। আর এ নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় সকল পাশবিকতাকেও।
__
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল-বাতহা উপত্যকায় সুমাইয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-র পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এ দৃশ্য দেখে প্রচন্ড কষ্ট পেতেন। কিন্তু মুসলমানের সংখ্যা তখন একেবারেই নগন্য হওয়ায় প্রতিবাদ করারও উপায় ছিলো না। তিনি তাঁদের সাহস ও ধৈর্য্য ধরার উপদেশ দিতেন।
• জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, “আম্মার ও তাঁর পরিবারকে যখন শাস্তি দেয়া হচ্ছিলো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন এবং তাঁদের উপর অকথ্য নির্যাতনের দৃশ্য দেখে বলেন, “তোমরা আম্মার ও ইয়াসির-এর পরিবারকে সুসংবাদ দাও- তাঁদের জন্য জান্নাত অবধারিত।” •
আলহামদুলিল্লাহ।
__
এভাবে দীর্ঘদিন অত্যাচারের পরও আবু জেহেল লক্ষ্য করলো, সুমাইয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর সিদ্ধান্তে অটল, ইসলাম ত্যাগ করার কোনো ইচ্ছেই তাঁর নেই; তখন সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো।
এরপর একদিন সন্ধ্যায় আবু জেহেল সুমাইয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-র তলপেট লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করলো ধারালো বর্শা। আর সেই বর্শা গিয়ে বিঁধলো তাঁর লজ্জাস্থানে। মুহূর্তের মধ্যে রক্তে রঞ্জিত হয়ে পড়লো চারিদিক। প্রচণ্ড যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে আল্লাহ পাক এর রাস্তায় শহীদ হয়ে গেলেন তিনি। আর অর্জন করে নিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ এর মর্যাদা।
___
সুমাইয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-র জন্ম হয়েছিলো আরবের তৎকালীন নিম্নগোত্র পরিবারে। যাদেরকে দাস-দাসী হিসেবে কাজ করতে হতো। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলাম প্রচারের শুরুর দিকেই তিনি ও তাঁর পরিবার ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ইসলাম কবুলকারীদের মধ্যে ১৭ তম ব্যক্তি। এছাড়াও একইসাথে ছিলেন সাহসী, ধৈর্য্যশীলা এবং দৃঢ় মনোবলের অধিকারিনী।
মূলত একজন প্রবীণা হওয়া সত্ত্বেও আবু জেহেল এর অকথ্য নির্যাতন সহ্য করার মতো সাহসিকতা তিনি রেখেছিলেন। প্রচন্ড নির্যাতনের কারণে শারীরিকভাবে ভেংগে পড়লেও মানসিকভাবে তিনি ছিলেন অনড়।
দ্বীনের জন্য সুমাইয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) এর এ সীমাহীন ত্যাগ এর কারণেই তিনি হয়ে আছেন মুসলিম উম্মাহ র আদর্শ যুগ থেকে যুগান্তরে।
(আল্লাহু আ’লাম)
তথ্যসূত্রঃ-
• আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (৬)
______
লিখাটি ফেসবুক এর “Know Your Heroes – উম্মাহর নক্ষত্ররাজি” পেইজ থেকে নেয়া
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*