উম্মাহর নক্ষত্ররাজি : উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা

By | Thu 28 Safar 1442AH || 15-Oct-2020AD
আইয়ামে জাহিলিয়াত। চারিদিকে নারী পুরুষ সকলে অশ্লীলতার স্রোতে গা ভাসিয়েছে। কিন্তু এর ভিড়েও একজন নারী তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ, শালীনতা, ব্যক্তিত্ব ও নীতিতে ছিলেন অটুট। তৎকালীন সময়ে সকল প্রতিকূলতা পাশ কাটিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আরবের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও সম্পদশালীদের একজন। ছিলেন সকলের মধ্যমনী, অত্যন্ত দানশীল রমণী। ইসলাম গ্রহণের আগেই তাঁর পবিত্র চরিত্র, নম্রতা ও ব্যবহারের কারণে তাঁকে উপাধি দেওয়া হয় “তাহিরা” ( পুত:পবিত্র )।
পরবর্তীতে এই মহিয়সী নারীই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন চরিত্র, নৈতিকতা ও বিশ্বস্ততার কারণে সকলের কাছে “আল-আমীন” উপাধি প্রাপ্ত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে। পড়ছিলাম জান্নাতের চার সর্দারনীর একজন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর জীবনচিত্র।ইসলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনে অবদান রাখা দুনিয়া ও আখিরাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই নারীকে নিয়েই আজকের আলোচনা।
___
( আল্লাহু আ’লাম )
পৃথিবীর বুকে তখনো ইসলামের সূর্য উদিত হয়নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারপাশের অস্থিরতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে স্বামীর ওপর নূন্যতম বিরক্ত হতেন না খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা), বরং প্রিয়তম স্বামীর সুবিধার্থে নানারকম খাবারের ব্যবস্থা করে দিতেন তিনি।
.
আল্লাহ পাক এর হুকুমে জিব্রাইল (আলাইহিস সালাম) এর হেরা গুহায় আগমন এবং ওহী নাজিলের ঘটনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রচন্ড ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। দ্রুত বাড়ি ফিরে খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে বললেন, তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিতে। কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে তিনি বললেন, “আমি আমার নিজের স্বত্তা সম্পর্কে ভীত হয়ে পড়েছি।”
খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) প্রিয় স্বামীকে অভয় প্রদান করে বললেন, “কখনোই না ,কখনোই না, এরকম কখনো হতেই পারে না। আল্লাহ আপনাকে অসম্মানিত করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন। আপনি মানুষের বোঝা বহন করেন, আর পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত সদ গুণাবলী পুন:প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। আপনি অথিতি আপ্যায়ন করেন এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষনে সাহায্য করেন।” [ সহীহ বুখারী ]
সুবহানআল্লাহ।
.
খাদিজা ( রাদিয়াল্লাহু আনহা ) ছিলেন ইসলামের বাগানের প্রথম ফুল, সর্বপ্রথম ইসলাম কবুলকারী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখ করেন, “আমি সোমবার দিন নবুওয়াত লাভ করি, আর খাদিজাহ সেই দিনের শেষ ভাগে নামাজ পড়ে।”
সুবহানআল্লাহ। স্বামীর প্রতি তাঁর বিশ্বাসের গভীরতা এতটাই প্রবল ছিলো যে, বিনা বাক্যব্যয়ে পূর্ন আস্থার সাথে তিনি তাঁর স্বামীর নবুওয়াত প্রাপ্তির ঘটনা বিশ্বাস করেন এবং নানা প্রতিকূলতার মাঝেও ইসলাম গ্রহণ করে অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দেন।
.
পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণের পর খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ইসলামের কল্যানে ব্যয় করতে থাকেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াত প্রাপ্তির ঘটনায় কাফির – মুশরিক রা যখন তাঁর ওপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখনও তিনি প্রিয়তম স্বামীর সঙ্গ ছাড়েননি। প্রতিটি বিপদ, দু:খ দুর্দশায় সবসময় তিনি প্রিয়তম স্বামীর পাশে ছিলেন ঢাল হয়ে।
.
খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর ইন্তেকাল পরবর্তী সময়কাল ছিলো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর সময়। প্রিয়তমা স্ত্রীর ইন্তেকালের দীর্ঘ সময় পরেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যত্নভরে,পরম মমতায় খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে স্মরণ করতেন, তাঁর বান্ধবীদের জন্য হাদিয়া পাঠাতেন, ভালো কিছু রান্না হলে তাঁর পরিচিতদের পাঠাতেন, তাঁর সম্পর্কিত কিছু দেখলে বা শুনলে তিনি অশ্রুসজল হয়ে পড়তেন।
সুবহানআল্লাহ।
___
খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর জীবনের খন্ডচিত্র থেকে শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, * স্বামীভক্তি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, পরস্পরের প্রতি কতটুকু শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিশ্বাস থাকা উচিত, উভয়ের মানসিক ও আত্মিক সাপোর্ট এর গভীরতা; মোটকথা বিবাহের মূল উদ্দেশ্য।
* খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিত সৈনিক। আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অন্তরের সুকুন, সবচেয়ে প্রশান্তির জায়গা। ঠিক যেমনি করে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ভালোবাসতেন, শ্রদ্ধা করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁকে ঠিক ততটাই ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন।
* তিনি এমনই এক মহিয়সী নারী ছিলেন, যার নেক আমলের কারণে আল্লাহ পাক তাঁকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং জান্নাতে তাঁর জন্য মনীমুক্তা খচিত একটি গৃহের সুসংবাদ দিয়েছেন। সুবহানআল্লাহ।
পরিশেষে, আল্লাহ পাক মুসলিম বোনদের খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর আদর্শ অনুসরণ করে আমাতুল্লাহ হয়ে ওঠার তৌফিক দিন। আমীন।
লিখাটি ফেসবুক এর “Know Your Heroes – উম্মাহর নক্ষত্ররাজি” পেইজ থেকে নেয়া
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*