আরো কিছু কতিপয় আলামত

By | Thu 23 Shawwal 1437AH || 28-Jul-2016AD

হাদিস ০১। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
ইসলামের শুরু হয়েছে যখন তা ছিল গারীব (আগন্তুক, অচেনা, অপরিচিত) অবস্থায়।। এটা আবার ফিরে যাবে সে গারীব অবস্থায়। আর সুসংবাদ হচ্ছে গুরাবাদের (অচেনা, অপরিচিতদের) জন্য।” [মুসলিম, কিতাবুল ঈমান ]
বলা হলো, “হে আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ), কারা গুরাবা?” তিনি (সঃ) বললেন, “যারা অপরিচিত/বান্ধবহীন অবস্থায় যখন লোকেরা ইসলামের মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ,সে সময় এর সংশোধন করবে।” [মুসনাদ আহমদ ৩৭৭৫, ৮৮১২ ]


হাদিস ০২। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সময় নিকটবর্তী হতে থাকবে, আর আমল হ্রাস পেতে থাকবে, কার্পণ্য ছড়িয়ে দেওয়া হবে, ফিতনার বিকাশ ঘটবে এবং হারজ ব্যাপকতর হবে। সাহাবা-ই-কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, সেটা কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হত্যা, হত্যা। [সহিহ বুখারি ৬৫৮৩]


হাদিস ০৩।  মুহাম্মদ ইব্‌ন উবায়দ (রহঃ) — আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই এমন এক ফিতনা-ফ্যসাদ প্রকাশ পাবে, যা গোটা আরবকে ঘিরে ফেলবে। আর এ সময় যারা নিহত হবে, তারা জাহান্নামী। এ সময় মুখ খোলা (বেহুদা কথাবার্তা বলা), তরবারির আঘাতের চাইতেও নিকৃষ্ট হবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) ৪২১৬]


হাদিস ০৪।  আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই মুসলমানদের উত্তম সম্পদ হবে ঐ বকরিসমূহ, যাদের চরানোর জন্য তারা পর্বতের চূড়ায় ও পানির স্থানসমূহে থাকবে এবং এভাবে তারা দীন রক্ষার জন্য ফিতনা থেকে পালিয়ে যাবে। [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) ৪২১৮]


হাদিস ০৫।  আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসে ছিলাম।
এ সময় তিনি ফিত্না সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেন; এমন কি তিনি ‘ইহ্‌লাসের’ ফিত্নার কথাও উল্লেখ করেন। এ সময় জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! ‘ইহ্‌লাসের’ ফিত্নাটা কিরূপ? তিনি বলেনঃ তা হলো-পলায়ন ও ধ্বংস।
এরপর তিনি সারা’ ফিত্নার কথা উল্লেখ করে বলেনঃ তা এমন এক ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত হবে, যাকে লোকেরা আমার বংশের লোক বলে মনে করবে, কিন্তু আসলে সে আমার বংশের লোক হবে না। কেননা, আমার বন্ধু-বান্ধব তো মুত্তাকী লোকেরাই।
এরপর লোকেরা এমন এক ব্যক্তির নেতৃত্বের উপর একমত হবে, যে দুর্বল চিত্ত ও লেংড়া হবে। (তার শাসনকাল দীর্ঘ হবে না।)
এরপর চরম ফিত্না প্রকাশ পাবে, যা এ উম্মতের কাউকে এক চড় না দিয়ে ছাড়বে না। এরপর লোকেরা যখন বলাবলি করতে থাকবে যে, ফিত্নার সময় শেষ হয়ে গেছে, তখন তা আরো বৃদ্ধি পাবে।
তখন এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে, সকালে যে মু’মিন থাকবে, সে সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে।
এ সময় লোকেরা বিভিন্ন দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করবে। আর মুসলমানরা যে দুর্গে অবস্থান করবে, সেখানে কোন মুনাফিক থাকবে না এবং যেখানে মুনাফিকরা থাকবে, সেখানে কোন মু’মিন লোক থাকবে না।
তোমরা যখন এ অবস্থায় পৌঁছবে, তখন দাজ্জাল বের হওয়ার অপেক্ষা করবে – ঐ দিন থেকেই বা পরের দিন। [আবু দাউদ শরীফ (ইফাঃ) ৪১৯৫]

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*