সকাল সন্ধ্যায় পড়ার দুআ

By | August 25, 2014

দুআ ০১। ফজর নামাযের পর ১০ বার (নড়াচড়া বা কথা বলার পূর্বে) 

আবূ আইয়াশ আয-যুরাকী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভোরে উপনীত হয়ে বলেঃ

لَاۤ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ  وَحْدَهُ  لاَ شَرِيْكَ لَهٗ ,لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْىٖ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

“আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই, রাজত্ব-সার্বভোমত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসা তাঁর জন্য, তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।”
সে ইসমাঈল (আ)-এর বংশের একটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য সওয়াব পাবে, তার দশটি গুনাহ মোচন করে দেয়া হবে, তার মর্যাদা দশ গুণ বৃদ্ধি করা হবে এবং সে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে। আর সে সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে অনুরূপ দোয়া করলে ভোর হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ নিরাপদ থাকবে। – আবু দাউদ (ইফা:) ৪৯৯৩, ইবনে মাজাহ (ইফা:) ৩৮৬৭

 


দুআ ০২।  ফজর এবং মাগরিব বাদ ৭ বার (কারো সাথে কথা বলার পূর্বে)

মুসলিম ইবন হারিছ তামিমী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোপনে তাকে বলেন যে, যখন তুমি মাগরিবের সালাত শেষ করবে, তখন সাতবার এ দু’আ পাঠ করবেঃ

– اَللَّهُمَّ أَجِرْنِىْ مِنَ النَّارِ

“হে আল্লাহ্‌ ! আমাকে জাহান্নাম থেকে পানাহ দিন।”

কেননা, সন্ধ্যায় যদি তুমি এ দু’আ পাঠ কর এবং সে রাতে মারা যাও, তবে তুমি জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে । আর ফজরের সালাত আদায়ের পর যদি তুমি এরুপ বল, আর তুমি যদি সেদিন মারা যাও, তবে তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।

আরেক বর্ণনায় এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ফজর ও মাগরিবের সালাত আদায়ের পর, কারো সাথে কথা বলার আগে-এ দু’আ পাঠ করবে।  [আবু দাউদ শরীফ (ইফা:) ৪৯৯৪-৪৯৯৫]

 


দুআ ৩। সকালে ও সন্ধ্যায় সাত বার

হযরত আবু দারদা (রাযী:) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল বিকাল সাতবার সত্য মনে (অর্থাৎ ফযীলতের প্রতি একীন রাখিয়া), অথবা  ফযীলতের প্রতি একীন ছাড়া এমনিতেই নিচের কালিমাটি পড়িবে, আল্লাহ তায়ালা তাহাকে (দুনিয়া আখিরাতের) সমস্ত চিন্তা হইতে হেফাজত করিবেন ।

حَسْبِيَ الله ُلاَإِلٰهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

অর্থ: আমার জন্য আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ঠ, তিনি ব্যতিত কোনো মাবুদ নাই, তাহারই উপর আমি ভরসা করিলাম , তিনিই আরশে আজীমের মালিক ।

[আবু দাউদ শরীফ]


দুআ ৪। ফজরের নামাজের পর ৩ বার

৪ টি জটিল রোগ থেকে মুক্তির দুআ (কুষ্ঠব্যাধি/leprosy, পাগলামি, পক্ষাঘাত/paralysis, অন্ধত্ব)

(سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ وَبِحَمْدِهٖ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَةَّ إِلاَّ بِاللهِ-    (كنز العمال, ابن السنى فى عمل اليوم والليللة


দুআ ৫। সকালে ও সন্ধ্যায় এক বার

আবদুল হামীদ (রাঃ), যিনি বনূ হাশিমের আযাদকৃত গোলাম ছিলেন, তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তার মা নবী করীম -এর কোন কন্যার সেবিকা ছিলেন এবং তিনি বলেছেনঃ নবী করীম তাকে সকালে এরূপ বলতে শিক্ষা দেন যে,

– سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهٖ لاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ مَا شَاۤءَ اللهُ كَانَ وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ أَعْلَمُ أَنَّ اللهَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ وَّأَنَّ الله َقَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَىْءٍ عِلْمًا

অর্থ : পবিত্রতা আল্লাহ্‌রই, তাঁর প্রশংসা সহ ; আল্লাহ্‌র শক্তি ছাড়া আর কারো কোন শক্তি নেই; আল্লাহ্‌ যা চান, তা-ই হয়, আর তিনি যা চান না, তা হয়না । আমি জানি-আল্লাহ্‌ সব কিছুর উপর সর্ব শক্তিমান এবং নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সব কিছু জ্ঞানে পরিবেষ্টন করে আছেন।

যে ব্যক্তি সকালে এ কথাগুলো বলবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদে থাকবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যা পর্যন্ত এরূপ বলবে, সে সকাল পর্যন্ত নিরাপদে থাকবে।

[আবু দাউদ ৪৯৯১ (ইফা:)]


দুআ ৬। সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খাদেম আবূ সাল্লাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন মুসলমান বা কোন মানুষ বা কোন বান্দা সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে বলে:

(رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا وَّبِالإِسْلَامِ دِيْنًا وَّبِمُحَمَّدٍ نَّبِيًّا- (مسند احمد , ابن ماجه

কিয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করা আল্লাহ নিজের প্রতি জরুরি করে নেন। – মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ  (ইফা:) ৩৮৭০

 


দুআ ৭। সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার

উছমান ইবন আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে বান্দা তিনবার এ দুআটি পাঠ করবে কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে নাঃ

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

অর্থ : আল্লাহর নাম নিচ্ছি। যমিন ও আসমানের কোন কিছুই যাঁর নামে বরকতের ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। [আবু দাউদ, তিরমিযী শরীফ]

আবদুল্লাহ্‌ ইবন মাসলামা (রহঃ) ……… উছমান ইবন আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এ দু’আ তিনবার পড়বে, সকাল পর্যন্ত তার উপর কোন আকস্মিক বিপদ আপতিত হবে না। দু’আটি হলোঃ

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

অর্থ : আমি শুরু করছি সে আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে, যার নাম নিলে যমীন ও আসমানের কিছুই কোন ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

আর যে ব্যক্তি সকালে এ দু’আ তিনবার পাঠ করবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর কোন আকস্মিক বিপদ আপতিত হবে না। ঘটনাক্রমে এ হাদীছের বর্ণনাকারী আবান ইবন উছমানের দেহের একাংশ অবশ হয়ে যায়, তখন এক ব্যক্তি, যিনি তার থেকে এ হাদীছ শোনেন, তিনি সংশয়ের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকান। তখন আবান (রাঃ) বলেনঃ তুমি আমার কি দেখছো, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তো উছমান (রাঃ)-এর উপর মিথ্যা অপবাদ দেন নাই এবং উছমান (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিথ্যা অপবাদ দেন নাই। বরং ব্যাপার হলোঃ যেদিন আমার দেহের অর্ধাংশ অবশ হয়, সেদিন আমি রাগান্বিত থাকায় এ দু’আ পড়তে ভুলে যাই। (ফলে, আমার এ পরিণতি হয়েছে।) [আবু দাউদ (ইফা:) ৫০০০]

 


দুআ ৮।   সকালে ও সন্ধ্যায় এক বার

আবূ মামার (রহঃ) শাদ্দাদ ইবনু উস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেনঃ সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার হলো বান্দার এ দু’আ পড়া-

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ

“হে আল্লাহ্‌! আপনি আমার রব্ব, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আর আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনি আমাকে আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ। অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করে না।”

যে ব্যাক্তি দিনের (সকাল) বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এ ইস্তিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হওয়ার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যাক্তি রাতের (প্রথম) বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এ দু’আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হওয়ার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।

[বুখারী শরীফ ৫৮৬৭]


দুআ ৯।   সকালে ও সন্ধ্যায় এক বার

Shukr (Gratitude) for ALLAH’s favours. Recite (مَاۤ أَصْبَحَ) in morning & replace with (مَاۤ أَمْسٰى) in evening.

 

(اَللَّهُمَّ مَاۤ أَصْبَحَ/ مَاۤ أَمْسٰى بِيْ مِنْ نِّغْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِّنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ-    (ابو داود


দুআ ১০।   সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার 

Protection from everything harmful.

(أَعُوْذُ بِكَلِمٰتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ-  (كنز العمال


দুআ ১১।   সকালে ও সন্ধ্যায় এক বার

Compensates deficiency in other supplicaitons

فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ- وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ- يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَيُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَكَذٰلِكَ تُخْرَجُونَ-    ابو داود


দুআ ১২। সকালে ও সন্ধ্যায় চার বার

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসুল ﷺ এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যাক্তি সকালে / সন্ধ্যায় একবার এই কালিমাগুলি পড়িয়া লয় –

اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ / أَمْسَيْتُ  أُشْهِدُكَ، وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ، وَمَلاَئِكَتِكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ، أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ مُحَمَّداً عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ

“হে আল্লাহ! আমি সকালে/বিকালে উপনীত হয়েছি। আপনাকে আমি সাক্ষী রাখছি, আরও সাক্ষী রাখছি আপনার ‘আরশ বহনকারীদেরকে, আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সকল সৃষ্টিকে, (এর উপর) যে— নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই; আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার বান্দা ও রাসূল।”

আল্লাহ তায়ালা তাহার এক চতুর্থাংশকে জাহান্নামের আগুন হইতে মুক্ত করিয়া দেন। যে দুইবার পড়ে আল্লাহ তায়ালা তাহার অর্ধাংশকে দোযখের আগুন হইতে মুক্ত করিয়া দেন। আর যে ব্যাক্তি তিনবার পড়ে আল্লাহ তায়ালা তাহার তিন চতুর্থাংশকে দোযখের আগুন হইতে মুক্ত করিয়া দেন। (আর যে ব্যাক্তি চারবার পড়ে, আল্লাহ তায়ালা তাহাকে সম্পূর্ণ দোযখের আগুন হইতে মুক্ত করিয়া দেন।)  [আবু দাউদ শরিফ]

 


দুআ ১৩।   সকালে ও সন্ধ্যায় এক বার

Prayers of 70,000 angels and for martydom.

اَعُوْذُ باِاللهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطٰنِ الرَّجِيْمِ, اَعُوْذُ باِاللهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطٰنِ الرَّجِيْمِ, اَعُوْذُ باِاللهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطٰنِ الرَّجِيْمِ- هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۖ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيمُ- هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ- هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاۤءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ- |ترمذى


দুআ ১৪।  সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার

জুওয়ায়রিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রত্যূষে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। যখন তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন তখন তিনি সালাতের জায়গায় ছিলেন। অনেকক্ষণ বিলম্ব করে চাশতের পর ফিরে এসে রাসুলুল্লাহ ﷺ দেখলেন তখনও তিনি তার যায়্নামাজে বসা । তিনি বললেন, আমি তোমাকে যে অবস্হায় রেখে গিয়েছিলাম তুমি সেই অবস্হায়ই আছ। তিনি বললেন, হ্যা। নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওযন করলে এই কালেমা চারটির ওযনই বেশী হবে। কালেমাগুলো এই-

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

অর্থ: “আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি তার অগণিত সৃষ্টির সমান, তার সন্তুষ্টি, তার আরশের ওযনের পরিমাণ ও তার কালেমার সংখ্যার পরিমাণ।”                             [সহীহ মুসলিম :: অধ্যায়ঃ ৪৯ (যিকর, দু’আ, তাওবা ও ইসতিগফার) :: হাদীস নং ৬৭১৮]


দুআ ১৫। সকালে ও সন্ধ্যায়

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযী) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ  হযরত ফাতেমা (রাযী) কে বলিলেন, আমার নসীহত মনোযোগ দিয়া শুন, তুমি সকালে ও সন্ধ্যায় (এই দুআ) পড়িও –

يَاحَىُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثْ أَصْلِحْ لِىْ شَأْنِىْ كُلَّهُ وَلَا تَكِلْنِيْ إِلَى نَفْسِىْ طَرْفَةَ عَيْنِ

অর্থ : হে চিরঞ্জীব, হে জমিন আসমান ও সমস্ত মাখলুকের রক্ষাকারী, আমি আপনার রহমতের উসীলায় ফরিয়াদ করিতেছি যে, আমার সমস্ত কাজ দুরস্ত করিয়া দিন এবং আমাকে এক পলকের জন্যও আমার নফসের সোপর্দ করিবেন না ।                          [মুসতাদরাকে হাকেম]


দুআ ১৬।   সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার

আবদূর রহমান ইবন আবূ বাকরা (রহঃ) একদা তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আমার পিতা! আমি আপনাকে প্রত্যেক দিন সকাল ও সন্ধ্যায় এ দু’আটি তিনবার পাঠ করতে শুনি, এর কারণ কি? দু’আ হলোঃ

|اَللَّهُـمَّ عَافِـنيْ  فِيْ  بَدَنِـيْ ، اَللَّهُـمَّ عَافِـنيْ  فِيْ سَمْـعِيْ ، اَللَّهُـمَّ عَافِـنيْ  فِيْ  بَصَـرِيْ ، لآَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْـتَ |ابو داود

 অর্থ : ”ইয়া আল্লাহ্‌! আমার দেহকে রোগমুক্ত রাখুন, আমার কান ও চোখকে রোগমুক্ত রাখুন, আপনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।”

জবাবে তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দু’আ পাঠ করতে শুনেছি; আমি তাঁর সুন্নাতের উপর আমল করতে পছন্দ করি। [আবু দাউদ (ইফা:) ৫০০২]


দুআ ১৭।   সকালে ও সন্ধ্যায় তিন বার

সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস

আবদুল্লাহ ইবন খুবায়ব (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা আমরা ঝড়-বৃষ্টিপূর্ণ এক অন্ধকার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্ধানে বের হই, যাতে তিনি আমাদের নামায পড়ান। আমরা তাঁর সন্ধান পেলে, তিনি বলেনঃ বল। তখন আমি কিছু বলিনি। তিনি আবার বলেনঃ বল। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! আমি  কি বলবো। তিনি বলেনঃ তুমি বল- কুলহু আল্লাহু আহাদ, কুল আউযূ বি-রাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযূ বি-রাব্বিন্নাস। তুমি সকাল ও সন্ধ্যায় এ তিনটি সূরা তিনবার পাঠ করলে, তা তোমাকে সব ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে যথেষ্ট হবে। [আবু দাউদ, হাদিস নাম্বার ৪৯৯৬ (ইফা.)]


দুআ ১৮।   সকালে ও সন্ধ্যায় একবার

ইয়াহ্‌ইয়া ইবন মূসা (রহঃ) ……… ইবন উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল ও সন্ধ্যায় এ দু’আ কখনই পরিত্যাগ করতেন না।

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي، وَمَالِي، اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اَللّٰهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَّمِيْنِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوْذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ

অর্থ : ইয়া আল্লাহ্‌! আমি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার কাছে সুস্থতা চাই। ইয়া আল্লাহ্‌! আমি আপনার কাছে দীন ও দুনিয়ার ক্ষমা ও কল্যাণ চাই ; আর আমার পরিবার-পরিজন ও সম্পদের জন্য ও কল্যাণ চাই! ইয়া আল্লাহ্‌! আমার দোষ-ক্রটি গোপন রাখুন এবং আমার অন্তরে শান্তি প্রদান করুন। ইয়া আল্লাহ্‌! আমাকে রক্ষা করুন-আমার ডান দিক হতে, বাম দিক হতে, সামনে হতে, পেছন হতে এবং উপর ও নীচের দিকের ক্ষতি থেকে। রাবী ওয়াকী (রহঃ) বলেনঃ যমীনের মধ্যে ধ্বসে যাওয়া থেকে।        [সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) ৪৯৯০]

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*