তিলাওয়াতে সিজদা

By | Tue 17 Muharram 1438AH || 18-Oct-2016AD

প্রশ্ন ১৬০০:  একাধিক সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতে চাইলে উত্তম নিয়ম কী? প্রত্যেক সিজদার জন্য কি দাঁড়াতে হবে? তিলাওয়াতে সিজদার তাকবীর বলা কি ফরয? দাঁড়ানোর হুকুম কী? সিজদা আদায়ের পর না দাঁড়ালে কোনো সমস্যা আছে কি? সিজদার আয়াত পড়ার পর যদি কেউ সাথে সাথে সিজদা না করে তবে  কোনো  অসুবিধা  আছে  কি?  বিস্তারিত জানতে চাই।

প্রশ্ন ১৬৯২: কুরআন শরীফ পড়ার সময় যখন সিজদার আয়াত আসে তখন মাঝে মাঝে আমি তা মনে মনে পড়ি। আমার জানার বিষয় হল, মনে মনে সিজদার আয়াত পড়ার দ্বারা সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হবে কি না?

প্রশ্ন ১৭২৯:  আমি একদিন আমাদের মসজিদে একাকী নামায পড়ছিলাম। কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি আমার পার্শ্বে বসে উচ্চ স্বরে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত শুরু করে এবং একপর্যায়ে সে আয়াতে সিজদা তিলাওয়াত করে যা আমি নামাযরত অবস’ায় শুনতে পাই। কিন’ আমি সিজদা না করে নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, উক্ত আয়াতে সিজদা শ্রবণ করার কারণে আমার উপর কি সিজদা ওয়াজিব হয়েছে? ওয়াজিব হলে কখন আদায় করব। নামাযের মধ্যে আদায় করা কি কর্তব্য ছিল?


প্রশ্ন ১৬০০:  একাধিক সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতে চাইলে উত্তম নিয়ম কী? প্রত্যেক সিজদার জন্য কি দাঁড়াতে হবে? তিলাওয়াতে সিজদার তাকবীর বলা কি ফরয? দাঁড়ানোর হুকুম কী? সিজদা আদায়ের পর না দাঁড়ালে কোনো সমস্যা আছে কি? সিজদার আয়াত পড়ার পর যদি কেউ সাথে সাথে সিজদা না করে তবে  কোনো  অসুবিধা  আছে  কি?  বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর:  তিলাওয়াতের সিজদার সময় দাঁড়ানো থেকে সিজদায় যাওয়া এবং সিজদা করে আবার দাঁড়িয়ে যাওয়া উভয়টিই মুস্তাহাব। তাই একাধিক তিলাওয়াতের সিজদা আদায় করতে চাইলেও এভাবেই করা উচিত। তবে বসে বসে সিজদা করলেও সিজদা আদায় হয়ে যাবে। আর তিলাওয়াতের সিজদার জন্য তাকবীর অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যাওয়া সুন্নত। আর সিজদার আয়াত পড়ে তৎক্ষণাৎ সিজদা করা সম্ভব হলে তা করে নেওয়াই ভালো। পরে করলেও কোনো গুনাহ নেই।

-মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৩/৩৮৩ হা: ৪২০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৬; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলালমারারকী ২৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০৭


প্রশ্ন ১৬৯২: কুরআন শরীফ পড়ার সময় যখন সিজদার আয়াত আসে তখন মাঝে মাঝে আমি তা মনে মনে পড়ি। আমার জানার বিষয় হল, মনে মনে সিজদার আয়াত পড়ার দ্বারা সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হবে কি না?

উত্তর: আয়াতে সিজদা মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে জপলে সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হয় না। তাই যে সকল ক্ষেত্রে সিজদার আয়াত মনে মনে পড়েছেন ঐ সকল ক্ষেত্রে সিজদা ওয়াজিব হয়নি। উল্লেখ্য, তেলাওয়াতের মাঝে  সিজদার আয়াত আসলে তা স্বাভাবিকভাবে তিলাওয়াত না করে মনে মনে পড়ে নেওয়া ঠিক নয়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩২; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩২২; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৫০০; রদ্দুল মুহতার ২/১০৪


প্রশ্ন ১৭২৯:  আমি একদিন আমাদের মসজিদে একাকী নামায পড়ছিলাম। কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি আমার পার্শ্বে বসে উচ্চ স্বরে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত শুরু করে এবং একপর্যায়ে সে আয়াতে সিজদা তিলাওয়াত করে যা আমি নামাযরত অবস’ায় শুনতে পাই। কিন’ আমি সিজদা না করে নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, উক্ত আয়াতে সিজদা শ্রবণ করার কারণে আমার উপর কি সিজদা ওয়াজিব হয়েছে? ওয়াজিব হলে কখন আদায় করব। নামাযের মধ্যে আদায় করা কি কর্তব্য ছিল?

উত্তর:আপনি নামাযের মধ্যে ঐ সিজদা না করে ঠিকই করেছেন। নামাযরত অবস্থায় অন্য ব্যক্তি থেকে আয়াতে সিজদা শুনলেও সিজদা ওয়াজিব হয়। তবে তা আদায় করতে হয় নামাযের পর। নামাযের মধ্যে আদায় করা যায় না। কেউ আদায় করলেও তা আদায় হবে না। সিজদাটি পরবর্তীতে আদায় করে নিতে হবে।
তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৩; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৫০০; আলবাহরুর রায়েক ২/১২১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৫; হাশিয়া তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩২৬
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

5 thoughts on “তিলাওয়াতে সিজদা

    1. Jalal Uddin Post author

      আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। বাকি আমাদের এই সাইটটি কোনো অনলাইন মাসালা দেয়ার সাইট নয় বলে সবচেয়ে উত্তম হবে আপনার প্রশ্নের উত্তরটি কোনো ভালো ও বিজ্ঞ দারুল ইফতার সাথে যোগাযোগ করে জেনে নিলে। আপনি চাইলে মাসিক আল-কাউসার এর ফতোয়া বিভাগে যোগাযোগ করতে পারেন যার ফোন নাম্বার সহ অন্যান্য তথ্য নিচের লিংক এ গেলে পাওয়া যাবে।
      https://www.alkawsar.com/bn/about/contact-us/
      আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক ও উপকারী ইলম সঠিক ভাবে জানার ও মানার ব্যবস্থা করে দেন।

      Reply
  1. মোঃ আবদুল্লাহ

    কোরআন তেলাওয়াতে আছরের নামাযের পর সিজদা র আয়াত তেলাওয়াতকরলেসিজদাহ্দদেওয়াযায়কি না মাগরিবের পর দিতে হ, প্লি।

    Reply
    1. Jalal Uddin Post author

      আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। বাকি আমাদের এই সাইটটি কোনো অনলাইন মাসালা দেয়ার সাইট নয় বলে সবচেয়ে উত্তম হবে আপনার প্রশ্নের উত্তরটি কোনো ভালো ও বিজ্ঞ দারুল ইফতার সাথে যোগাযোগ করে জেনে নিলে। আপনি চাইলে মাসিক আল-কাউসার এর ফতোয়া বিভাগে যোগাযোগ করতে পারেন যার ফোন নাম্বার সহ অন্যান্য তথ্য নিচের লিংক এ গেলে পাওয়া যাবে।
      https://www.alkawsar.com/bn/about/contact-us/
      আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক ও উপকারী ইলম সঠিক ভাবে জানার ও মানার ব্যবস্থা করে দেন।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*