ঘুমানোর সুন্নাহ (দুআ, যিকির)

By | Wed 26 Rabi Al Awwal 1437AH || 6-Jan-2016AD

হাদিস ০১। সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, প্রতি রাতে নবী ﷺ শয্যা গ্রহণকালে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাকসূরা নাস পাঠ করে দুই হাত একত্রিত করে হাতে ফুঁক দিয়ে সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন । মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তাঁর দেহের সম্মুখভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার করে এরূপ করতেন।(বুখারী শরীফ ::৪৬৩৮)


হাদিস ০২।

নবী বলেছেন, “শয্যায় আশ্রয় গ্রহনের সময় কেউ যদি (নিম্নের) এই দু’আটি তিনবার পাঠ করে তবে গুনাহর সংখ্যা যদিও হয় সমুদ্রের ফেনার মত, গাছের পাতার মত, মরুভূমির ঘন বালুকারাশির মত, দুনিয়ার দিবসগুলোর মত, তবুও আল্লাহ তা’আলা  তার সেই সব গুনাহ মাফ করে দিবেন

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ  الَّذِيْ لآَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَ أَتُوبُ إِلَيْهِ  (তিরমিযী শরিফ – ৩৩৯৭ (ইফা:))


হাদিস ০৩।

নবী করীম এর স্ত্রী হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ  রাসুলুল্লাহ ﷺ, শোয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাত ডান গালের নীচে রেখে নীচের দু’আটি তিনবার পড়তেন।

اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ

হে আল্লাহ্‌ ! যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের পুনরায় জীবিত করে উঠাবেন, সেদিন আপনার আযাব থেকে আমাকে রক্ষা করবেন”  (আবু দাউদ (ইফা:) ৪৯৬১।। তিরমিযী (ইফা:) ৩৩৯৯)


হাদিস ০৪। সূরা কাফিরুন

নওফল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী ﷺ তাকে বলেনঃ “তুমি শোবার সময় সূরা কাফিরুন তিলাওয়াত করবে। কেননা, এ সূরা শিরক থেকে মুক্তকারী”  (আবু দাউদ (ইফা:) ৪৯৭১।। তিরমিযী (ইফা:) ৩৪০৩)


হাদিস ০৫।

 হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী ﷺ যখন বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করতে যেতেন, তখন তিনি এ দু’আ পড়তেন:

   اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا

হে আল্লাহ! আপনারই নাম নিয়ে মরি আর আপনার নাম নিয়েই জীবিত হই

আর তিনি যখন জেগে উঠতেন তখন পড়তেন:

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَمَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ  

যাবতীয় প্রশংসা সে আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের (নিদ্রা জাতীয়) মৃত্যুদানের পর আবার আমাদের পুনর্জীবিত করেছেন। (অবশেষে) আমাদের তারই নিকটে মিলিত হতে হবে” (বুখারী (ইফা:) ৫৮৭৩)


হাদিস ৬। সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত

আবূ নু’আইম (রহঃ) আবূ মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, কেউ যদি রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট। (বুখারী (ইফা:) ৪৬৪২)


হাদিস ৭। আয়তুল কুরসী

উসমান ইব্‌ন হায়সাম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ আমাকে রমযানে প্রাপ্ত যাকাতের মাল হেফাজতের দায়িত্ব দিলেন। এ সময় জনৈক ব্যাক্তি এসে খাদ্য-দ্রব্য উঠিয়ে নিতে উদ্যত হল। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, আমি তোমাকে আল্লাহর নবী ﷺ এর কাছে নিয়ে যাব। এরপর পুরো হাদীস বর্ণনা করে। তখন লোকটি বলল, যখন আপনি ঘুমাতে যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবেন। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন পাহারাদার নিযুক্ত করা হবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান আপনার কাছে আসতে পারবে না রাসূল ﷺ (এ ঘটনা শুনে) বললেন, (যে তোমার কাছে এসেছিল) সে সত্য কথা বলেছে, যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী শয়তান। (বুখারী (ইফা:) ৪৬৪২)


হাদিস ৮। শোবার সময় তাসবীহ পাঠ- সম্পর্কে

হাফ্‌স ইবন উমার (রহঃ) ……… আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার ফাতিমা (রাঃ) নবী করীম ﷺ-এর কাছে এসে এ মর্মে অভিযোগ পেশ করেন যে, যাঁতা ঘুরাতে ঘুরাতে তার হাতে ফোঁসকা পড়ে গেছে। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে কিছু যুদ্ধ বন্দী আসলে, ফাতিমা (রাঃ) তা থেকে একটা দাসী চাওয়ার জন্য আসেন।  নবী ﷺ-এর সংগে দেখা না হওয়ায়, তিনি ব্যাপারটি আইশা (রাঃ)-কে জানিয়ে যান। পরে নবী ﷺ সে সময় আমাদের কাছে আসেন, যখন আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। আমরা উঠতে চাইলে, তিনি বলেনঃ তোমরা দু’জন শুয়ে থাক। এরপর তিনি এসে আমাদের মাঝখানে বসে পড়েন, এমন কি আমি তাঁর পায়ের ঠান্ডা আমার বুকের মধ্যে অনুভব করতে থাকি । তারপর তিনি বলেনঃ আমি তোমাদেরকে এর চাইতে উত্তম বিষয় সম্পর্কে অবহিত করবো না, যা তোমরা চেয়েছো-তার চাইতে ? আর তা হলোঃ যখন তোমরা শয়ন করবে, তখন সুবহানাল্লাহ-৩৩ বার, আল-হামদুলিল্লাহ-৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার-৩৪ বার পাঠ করবে । এটি তোমাদের জন্য দাস-দাসী থেকেও উত্তম। (আবু দাউদ শরীফ (ইফা): ৪৯৭৮)

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*