উম্মাহর নক্ষত্ররাজি : সা’দ ইবনু রাবী’র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু

By | Thu 28 Safar 1442AH || 15-Oct-2020AD
উহুদ ময়দান। তীব্র যুদ্ধের পর ক্বুরাইশরা প্রত্যাবর্তন করেছে। যুদ্ধে আহত হয়েছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ। শহীদ হয়েছেন হামযা, মুস’আব ইবন উমাইর, হানযালা সহ আরো অনেক সাহাবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন। উহুদের ময়দানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দেহগুলোর মধ্যে মুসলিমরা তাদের শহীদ ও আহতদের খুজছেন।
.
যাইদ ইবনু সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “উহুদের দিনে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে প্রেরণ করেন আমি যেন সা’দ ইবনু রাবী’র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মৃতদেহ অনুসন্ধান করি, এবং বলেন –
.
যদি তাকে জীবিত দেখতে পাও তবে তাকে আমার সালাম জানাবে, এবং তাকে আমার কথা বলবে যে, সে নিজেকে কেমন পাচ্ছেন তা রাসূলুল্লাহ ﷺ জানতে চান।‘
.
যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিহতদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে সা’দকে রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খুজে বের করলেন। যখন তিনি সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – এর কাছে পৌঁছুলেন, তখন তিনি মৃত্যুর দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছিলেন। তার দেহে ছিল বর্শা, তলোয়ার ও তীরের সত্তরের চেয়েও বেশি আঘাত। যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন –
.
‘হে সা’দ! রাসূলুল্লাহ ﷺ আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনি নিজেকে কেমন পাচ্ছেন তা জানতে চেয়েছেন।‘
.
জীবনের শেষ মুহুর্তে, মৃতদেহ ও রক্তের মাঝে শরীরে সত্তরের বেশি আঘাত নিয়ে শায়িত অবস্থায় সা’দ ইবনু রাবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উত্তর দিলেন –
.
‘রাসূলুল্লাহকে ﷺ আমার সালাম জানাবেন এবং তাঁকে বলবেন আমি জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি। আর আপনি আমার ক্বওম আনসারদের বলবেন, যদি তাদের একটি চোখও নড়তে থাকা অবস্থায় শত্রু রাসূলুল্লাহ ﷺ পর্যন্ত পৌছে যায় তবে আল্লাহ তা’আলার নিকট আমাদের কোন ওযর চলবে না।’
.
আর তারপর সা’দ ইবনু রাবীর দেহ নিশ্চল হয়ে গেল – রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।
.
.
একজন মানুষের প্রতি ভালোবাসা কতোটা তীব্র হলে মৃত্যুর মূহুর্তে এমন বলা সম্ভব? এমনই ছিলেন রাসূলুল্লাহর ﷺ আনসারগণ। কিন্তু রাসুলুল্লাহকে ﷺ কে নিজ জীবন, নিজ পরিবার, নিজ অর্থ-সম্পদের চেয়ে বেশি ভালোবাসার মতো মানুষ কি এই সময় এ পৃথিবীতে আছেন? নামধারী “আশেকে” রাসূল, কিংবা ভন্ড পথভ্রষ্টদের কথা বলছি না। তাদের কথা বলছি যারা সত্যিকার অর্থেই সাহাবীদের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন সাথে প্রতিযোগিতা করতে চান, যারা সত্যিকার অর্থেই এক বাক্যে দুনিয়া ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ।
.
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ
.
আমার উম্মাতের মধ্যে আমাকে অধিক মহব্বাতকারী ঐ সমস্ত লোকেরা হবে, যারা আবির্ভুত হবে আমার ইন্তিকালের পর, তারা আকাঙ্ক্ষা করবে, হায় যদি তাদের পরিবার-পরিজন এবং ধন সম্পদেরর বিনিময়েও আমাকে দেখতে পেত।
.
[ সহিহ মুসলিম ৭০৩৭, ই.ফা ৬৮৮২, ই.সে ৬৯৩৯]
.
আল-আনসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, যখন রাসূলুল্লাহর ﷺ নেতৃত্বে সারিবদ্ধ হলেন, তখন তাদের জ্ঞাতিভাইরাই তাদের শত্রুতে পরিণত হয়ে গেলেন। সমগ্র আরব তাদের বিরুদ্ধে চলে গেল। সমগ্র পৃথিবীকে উপেক্ষা করে তারা রাসূলুল্লাহর ﷺ পক্ষ নিলেন। এই ছিল তাদের পরীক্ষা। যে পরীক্ষাউ উত্তীর্ন হবার পুরস্কার ছিল আল্লাহ ‘আযযা ওয়া জালের রিদ্বওয়ান এবং জান্নাহ।
.
যারা আল-আনসারের চাইতে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বেশি ভালোবাসবে তাদের পরীক্ষা কেমন হবে? তারা কি দুনিয়ার ক্ষমতাসীনদের কাছে সমাদৃত হবে? তারা কি দুনিয়ার অধিকাংশের কাছে নন্দিত হবেন নাকি নিন্দিত? আর তাদের পুরস্কারই বা কেমন হবে?
.
Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published.

*